সংজ্ঞা : যখন একটি পরিবার থেকে অপর একটি পরিবার দূরে বিচ্ছিন্নভাবে  বাড়িঘর স্থাপন করে বসবাস করে, তখন এরূপভাবে গড়ে ওঠা বসতিকে বলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি। যেমন : থর মরুভূমি।

বিক্ষিপ্ত বা বিচ্ছিন্ন বসতির বৈশিষ্ট্য :

i) এই ধরনের বসতিতে দুটি বাড়ির মধ্যবর্তী ব্যবধান অনেক বেশি হয়। ii) প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি, দুর্গম অরণ্য প্রভৃতি অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠে।

  

বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠার কারণ :

প্রাকৃতিক কারণ : বন্ধুর ভূপ্রকৃতি : বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, পার্বত্য পরিবেশে কৃষি ও বসতবাড়ি নির্মাণের উপযুক্ত স্থান পাওয়া যায় না। সেখানে ইতস্ততভাবে বসতি গড়ে ওঠে। যেমন — বিল, গণ্ড উপজাতি। প্রতিকূল জলবায়ু : রুক্ষ ও কৃষির অনুপযুক্ত জলবায়ুতে এরূপ বসতি গড়ে উঠে। যেমন : থর মরুভূমির রাইকা, বানজারা উপজাতি। বন্যা : বন্যা ও প্লাবন অধ্যুষিত অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত উচ্চ স্থান, টিলা স্থানে বসতি গড়ে ওঠে। যেমন — গঙ্গা, ঘর্ঘরা নদীর প্লাবনযুক্ত স্থান।   

অর্থনৈতিক কারণ : কৃষিজমি বণ্টন : ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কৃষিজমি যদি খুব বড়ো হয় তাহলে চাষাবাদের সুবিধার জন্য কৃষক খামারের মধ্যে বসবাস করে। পশুপালন : যে কোনো তৃণভূমি অঞ্চলে যাযাবররা ঋতু অনুসারে পশুচারণ করার ফলে সেখানে এই বসতি গড়ে ওঠে। ভূমি সংস্কার : ভূমি সংস্কারে জমির মালিকানাধীন ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের জন্য উদবৃত্ত জমি সৃষ্ট হয় তাতে ভূমিহীন চাষীদের পুনঃবণ্টনে জনবসতির উদ্ভব হয়।

   

বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠার ভৌগোলিক পরিবেশ :

i) বন্ধুর ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলেই অধিকাংশ বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠে। ii) ভূমির ঢাল, পাহাড়ের শীর্ষবিন্দু, চাষের অনুপযোগী অনুর্বর মৃত্তিকা অঞ্চলে এই জনবসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়। iii) কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে কৃষি ও পশুপালনের উপর ভিত্তি করে এই ধরণের জনবসতি গড়ে উঠেছে যা হ্যামলেট নামে পরিচিত। iv) দুর্গম অরণ্য অঞ্চলেও এই ধরণের বসতি দেখা যায়। v) বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের উচ্চস্থানে গড়ে ওঠা বিক্ষিপ্ত জনবসতিকে শুষ্ক বিন্দু বসতি বলা হয়।

   

বিক্ষিপ্ত ও রৈখিক বসতির পার্থক্য :

বিষয় বিক্ষিপ্ত বসতি রৈখিক বসতি
বাড়ির ব্যবধান বাড়িগুলির মধ্যে ব্যবধান বেশি। বাড়িগুলির মধ্যে ব্যবধান কম।
যাতায়াত যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত
জমি অনুদার ভূপ্রকৃতি, দুর্গম অরণ্যের জন্য চাষযোগ্য জমি কম থাকে। কৃষিযোগ্য জমি পাবার সুবিধা আছে।
নিরাপত্তা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে নিরাপত্তার অভাব নেই।

গোষ্ঠীবদ্ধ ও বিক্ষিপ্ত জনবসতির পার্থক্য :

গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি বিক্ষিপ্ত জনবসতি
i) অসংখ্য বসতবাড়ি একসাথে গড়ে উঠলে তাকে গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি বলে। i) বসতবাড়ির পরিবারগুলি অনেক দূরে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করলে তাকে বিক্ষিপ্ত জনবসতি বলে।
ii) সাধারণত সমভূমি অঞ্চলে পার্বত্য উপত্যকার নিম্নাংশে এই ধরণের বসতি গড়ে ওঠে।

ii) পার্বত্য অঞ্চলে, মালভূমি অঞ্চলে এই ধরণের জনবসতি গড়ে ওঠে। 

iii) প্রধানত কৃষিকাজ, খনিজদ্রব্য আহরণ, শিল্প প্রভৃতি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। iii) পশুপালন, বনজসম্পদ সংগ্রহ প্রভৃতি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
iv) মানুষের জীবনধারণের মান উন্নত। iv) মানুষের জীবনধারণের মান অনুন্নত।
v) প্রত্যেকটি বাড়ির পারস্পারিক দূরত্ব খুবই কম। v) বসতবাড়িগুলির মধ্যে দূরত্বের পার্থক্য খুব বেশি।
vi) এই জনবসতির মানুষদের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ জোরালো। vi) এই জনবসতির মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই কম।