র্যোগ হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে অথবা মানবজাতি দ্বারা সংঘঠিত দূর্ঘটনা বিশেষ। দুর্যোগের ফলে সাধারণত সমাজের ব্যাপক ক্ষতিসাধন, প্রাণহানি অথবা পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ভূমিকম্প, ঝড়, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ইত্যাদি বিভিন্নভাবে দূর্যোগ সংঘটিত হতে পারে। দূর্যোগের ফলে জীবন হানিসহ, সম্পত্তিহানি, ঘর­বাড়ি ধ্বংস, ফসল নষ্ট ইত্যাদির ফলে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়ে। প্রকৃতপক্ষে দুর্যোগ ও বিপর্যয় একই কার্যকারণের ভিন্ন ভিন্ন ফলাফলের নাম। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়— যখন কোনো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় গভীরসমুদ্রে অবস্থান করে, তখন তাকে আমরা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বলি, কিন্তু যখন তা জনবহুল উপকূলে আছড়ে পড়ে জনজীবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, তখন তাকে আমরা ঘূর্ণিঝড়জনিত বিপর্যয় (disaster) বলি। একইভাবে মরু এলাকায় রিখটার স্কেলের অতি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও প্রাণহানির আশঙ্কা নগণ্য, কিন্তু তা যদি কোনো ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে ঘটে তাহলে জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এজন্যই বলা যায়, দুর্যোগ ও বিপর্যয় একই কার্যকারণের ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল।

  

দুর্যোগ বলতে কী বোঝ? প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাকে বলে? দুর্যোগের বৈশিষ্ট্যগুলি কি কি?

প্রকৃতি ও মনুষ্যসৃষ্ট যেসব পরিবেশগত ঘটনা মানুষের জীবন হানি এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে, তাদের দুর্যোগ (hazard) বা পরিবেশগত বিপদ বলে।দুর্যোগ হল একটি আকস্মিক বিপজ্জনক ঘটনা। দুর্যোগ হল একটি বা অনেকগুলি প্রাকৃতিক উপাদান ও প্রক্রিয়ার সমষ্টি। ভৌগোলিক সাবিন্দ্রসিং-এর মতে দুর্যোগ হল কতকগুলি প্রাকৃতিক ও মানব কর্মজাত নির্ণায়ক কারণ ও তার প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনা বা বিপজ্জনক অবস্থা।

দুর্যোগ বিভিন্ন প্রকার হয় — প্রাকৃতিক দুর্যোগ (খরা), আধা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ : ইউনাইটেড নেশন ডিজাস্টার রিহ্যাবিলিটেশন অরগানাইজেশন (UNDRO) এর মতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হল কোন এক সময়ে অথবা কোন এক স্থানে ঘটিত একটি সংকট ডার ফলে স্থানীয় জনসমাজ বিপদগ্রস্ত হয়। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিকাঠামো এতটাই বিপর্যস্ত হয় যে আক্রান্ত মানুষের পক্ষে সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে যায়। 

দুর্যোগের বৈশিষ্ট্যগুলি হল 

(i) দুর্যোগ প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট উভয় কারণে হতে পারে। 

(ii) দুর্যোগ থেকে জীবন ও সম্পদহানির আশঙ্কা থাকে। 

(iii) দুর্যোগ সাধারণত ছোট এলাকা জুড়ে সংঘটিত হয়। 

(iv) বিশাল এলাকা বা জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। 

(v) দুর্যোগকে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত করা যায়।

 

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ? প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শ্রেণীবিভাগ কর? আধা-প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলতে কী বোঝায়?

প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলতে ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ইত্যাদিকে বোঝায়। 

এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল — 

(i) প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রকৃতিতে সৃষ্ট হয়। এর সম্বন্ধে খুব একটা সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না। 

(ii) এটি একটি বিশ্বব্যাপী প্রক্রিয়া, পৃথিবীর সবদেশেই কোন না কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা যায়। 

(iii) এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে ভূমিকম্প সব থেকে ক্ষতি করে। এছাড়া ক্রান্তীয় সাইক্লোন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভয়ংকর আকার ধারণ করে। 

(iv) ভূমিকম্প ছাড়া অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় আগে থেকে বোঝা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়। 

(v) ভারতের মোট ভৌগোলিক অঞ্চলের 69% অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। হিমালয়, গুজরাট, আন্দামান সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ। 

(vi) ভারতের প্রায় 68% অঞ্চল খরাপ্রবণ। এই অঞ্চলগুলি দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে শুষ্ক অঞ্চল সীমাবদ্ধ। 

(vii) ভারতে মোট ভৌগোলিক অঞ্চলের 12% বন্যা ও নদী ভাঙন সমস্যার অন্তর্গত। অসম, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিবছর প্লাবিত হয়। 

(viii) ভারতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড় দ্বারা আক্রান্ত হয়। 

(ix) হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল। 

(x) ভারতে প্রতিবছর কোন না কোন ভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে। 

(xi) প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে প্রাণহানির পরিমাণ সব থেকে বেশি ঘটে থাকে। 

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শ্রেণিবিভাগ নানাভাবে করা যেতে পারে। বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে চার ভাগে ভাগ করা যেতে পারে —

  1. জলবায়ু সংশ্লিষ্ট : ঝড়, সাইক্লোন, টর্নেডো, হ্যারিকেন, সমুদ্রে জলোচ্ছাস।
  2. জল সম্পর্কিত : বন্যা, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টিপাত, জোয়ার ইত্যাদি।
  3. ভূ-সম্পর্কিত : ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ধস, হিমানিসম্প্রপাত ইত্যাদি।
  4. বনভূমি সম্পর্কিত : দাবানল।

আধা-প্রাকৃতিক বিপর্যয় : মানুষের কোন অবৈজ্ঞানিক কার্যের ফলে যখন কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে তখন তাকে আধা-প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে। যেমন— পার্বত্যঢালে অবৈজ্ঞানিকভাবে কৃষিকার্য চালানো, নদীখাত আবর্জনায় বুঝে যাওয়া ইত্যাদি।

 

প্রাক্ বিপর্যয় ব্যবস্থাপনাগুলি কি কি হতে পারে লেখ? মনুষ্যকৃত বিপর্যয় কাকে বলে? 

প্রাক্ বিপর্যয় ব্যবস্থাপনাগুলি হল 

(i) দূরদর্শন ও বেতার ব্যবস্থার মাধ্যমে সতর্কবার্তা চালানো। 

(ii) মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা। 

(iii) শুকনো খাবার, ঔষুধ, পলিথিন, জ্বালানির ব্যবস্থা করা। 

(iv) উপযুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা। 

(v) স্বেচ্ছাসেবি বাহিনী, সেনাবাহিনী, নৌকা, গাড়ি, হেলিক্পটার ইত্যাদি প্রস্তুত রাখা। 

যদি কোন বিপর্যয় মানুষের কার্যের ফলে সংঘটিত হয় এবং তাতে প্রকৃতির কোন হাত না থাকে তবে সেই বিপর্যয়কে মনুষ্যকৃত বিপর্যয় বলা হয়। যেমন — বিভিন্ন রকম দাঙ্গা, জঙ্গি গোষ্ঠীর বিস্ফোরণ ঘটানো, 1984 সালে ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা ইত্যাদি হল মনুষ্যকৃত বিপর্যয়।

 

বিপর্যয় চলাকালীন ব্যবস্থাপনা কী কী হওয়া উচিত? 

বিপর্যয় চলাকালীন ব্যবস্থাপনাকে এককথায় প্রতিক্রিয়া বা আপদকালীন ব্যবস্থা বলে। এই আপদকালীন অবস্থায় বা বিপর্যয় চলাকালীন অবস্থায় যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেগুলি হল —

(i) নিরাপদ স্থানে গমন : দুর্যোগে পড়েও অনেক সময় মানুষ নিজের আশ্রয় ছেড়ে অন্যত্র যেতে চায়না। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবীরা বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বুঝে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবে। বন্যার সময় এই ব্যবস্থা খুবই কার্যকরী। কারণ বন্যার সময় জল ক্রমশ বাড়তে থাকে। 

(ii) উদ্ধারকার্য : আবহাওয়ার পূর্বাভাস বা সংকেত পাওয়া গেলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাবার প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু ভূমিকম্প জাতীয় বিপর্যয়ে হঠাৎ করে দুর্ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে উদ্ধারকার্য চালানো উচিত। স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা হেলিকপ্টার, নৌকা, স্পিডবোর্ড প্রভৃতি ব্যবহার করে মানুষজন, গৃহপালিত জন্তু উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসবে। 

(iii) ত্রাণ শিবির পরিচালনা : উদ্ধারীকৃত মানুষজন ও গৃহপালিত জীবজন্তুর খাওয়া ও থাকার জন্য ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করতে হবে। ত্রাণ শিবির এমনভাবে এবং এমন জায়গায় করা উচিত যাতে বেশ কিছুদিন থাকার ব্যবস্থা থাকে এবং অন্য নিরাপদ জায়গা থেকে কাঁচা খাদ্য নিয়ে আসার সুযোগ থাকে। ত্রাণ শিবিরে খাবার রান্না করে সরবরাহ করা হয়। সেজন্য নিরাপদ পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকা জরুরি, না থাকলে অস্থায়ী শৌচাগার বানিয়ে নিতে হবে।

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো। 

বিষয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রাকৃতিক বিপর্যয়
কী? প্রাকৃতিক যেসব ঘটনা বা অবস্থার মাধ্যমে প্রকৃতির স্বাভাবিক অবস্থা বিঘ্নিত হয় বা বিনষ্ট হয় বা হবার সম্ভাবনা তৈরি হয় তাকে বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দুর্যোগ যখন ভীষণভাবে মানবসমাজ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি করে বাস্তুতন্ত্রের ভয়াবহ ক্ষতি করে তাকে বলে বিপর্যয়।
অর্থ ইংরেজি Hazard শব্দের অর্থ Danger, Risk. ইংরেজি Disaster শব্দের অর্থ destruction ধ্বংসাত্মক, বিপজ্জনক ।
প্রকৃতি

এটি বিপর্যয়ের পূর্ববর্তী অবস্থা।

দুর্যোগ সব সময় বিপর্যয় নাও সৃষ্টি করতে পারে।

এটি দুর্যোগের পরবর্তী অবস্থা।

যে সমস্ত দুর্যোগ জীবন ও সম্পত্তির হানি ঘটায় সেগুলিই বিপর্যয়।

গতিশীলতা দুর্যোগ আকস্মিক বা ধীর গতিতে সম্পন্ন হয়। বিপর্যয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আকস্মিকভাবেই সংঘটিত হয়।
স্থায়ীত্ব এটি স্বল্প স্থায়ী, স্বল্প স্থান জুড়ে ঘটে। এটি দীর্ঘস্থায়ী, এর পরিধি বিস্তৃত।
জীবনহানি এতে জীবন হানির আশঙ্কা কম। এতে জীবনহানি ঘটবেই
বিস্তার ঘূর্ণিঝড়, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ধস হল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা জনহীন অঞ্চল বা জনাকীর্ণ উভয় অঞ্চলেই ঘটতে পারে। জনাকীর্ণ উপকূলবর্তী অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বা জনবহুল অঞ্চলে সৃষ্ট ধস, অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিকম্প বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
মাত্রা দুর্যোগ ক্ষুদ্র স্কেলে ঘটে। বিপর্যয় বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে বড়ো স্কেলে ঘটে।
সাহায্য এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি কম বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন ঘটে না। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি এতই ব্যাপক যে বাইরের সাহায্য ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

 

খরা (Draught) সৃষ্টির তিনটি প্রাকৃতিক কারণ উল্লেখ করো। 

খরা সৃষ্টির প্রাকৃতিক কারণ :

সংজ্ঞা : দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের অভাব এবং কম বৃষ্টিপাতের ফলে মাটি শুকিয়ে গিয়ে মানুষ, উদ্ভিদ ও গবাদি পশুর ক্ষতির সম্ভবনা তৈরি করলে তাকে খরা বলে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের মতে, কোনো অঞ্চলে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের থেকে 75 শতাংশ কম হলে তাকে খরা বলে।

কারণ : ক) অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত : কোনো একটি অঞ্চলে  স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টিপাত এবং অনিয়মিত ও অনিশ্চিত বৃষ্টিপাত খরা সৃষ্টি করে। 

খ) বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব : বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতার বৃদ্ধি এবং কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের চেয়ে বাষ্পীভবনের মাত্রা বেশি হওয়ার জন্য খরা সৃষ্টি হয়। 

গ) মরুভূমির প্রসার : মরু সংলগ্ন অঞ্চলে ক্রমাগত মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুর প্রভাবে সংলগ্ন অঞ্চলে খরার সৃষ্টি হয়। 

ঘ) বায়ুর গতি ও দিক পরিবর্তন : কোনো অঞ্চলের  উপর দিয়ে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর গতি ও দিকের পরিবর্তন ঘটলে সেই অঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত ও শুষ্ক অবস্থার সৃষ্টি হয়। 

যেমন : দঃ-পঃ মৌসুমি বায়ুর দিক ও গতি পরিবর্তনে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শুষ্ক অবস্থা তৈরি হয়।

 

বন্যা বলতে কি বোঝ? বন্যায় কি কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার? 

বন্যা একটি বহুল প্রচলিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যখন অত্যধিক বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নদী ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে ভূমিভাগ, কৃষিক্ষেত্র জলমগ্ন হয়ে যায়, বাড়িঘর ভেসে যায়, তাকে বন্যা বলে। এতে প্রচুর মানুষ ও গবাদি পশুর প্রাণহানি হয়। 

বন্যায় নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করা দরকার 

(i) নদী বাঁধকে শক্তপোক্ত করা যাতে সহজে ভেঙ্গে না যায়। 

(ii) নদীখাতের উপযুক্ত সংস্করণ করা যাতে নদী জলপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 

(iii) যেখানে বন্যা হয় না সেখানে আশ্রয়স্থল তৈরী করা। 

(iv) বন্যার পুর্বাভাস এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থা করা। 

(v) পানীয় জলের ব্যবস্থা করা। 

(vi) উপযুক্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, পানীয় জল, জ্বালানি, ঔষুধ, পালিথিনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

(vii) জল যাতে বেশিদিন দাঁড়িয়ে থাকতে না পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

বন্যা নিয়ন্ত্রণকল্পে কোন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? 

অজলমগ্ন অঞ্চল যখন নদীর জলবৃদ্ধি জনিত কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে তখন তাকে বন্যা বলা হয়। এই বন্যার মোকাবিলা বা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত সেগুলি হল— 

(i) নদীগর্ভের পলিমুক্তকরণ : নদীগর্ভে যে সমস্ত স্থানে পলি জমেছে সেই সমস্ত স্থানকে নিয়মিত সমীক্ষা করে চিহ্নিত করতে হবে ও নিয়মিত ড্রেজিং­এর মাধ্যমে পলিমুক্ত করতে হবে। 

(ii) জলাধার সংস্কার : জলাধারগুলিকে সংস্কারের মাধ্যমে তার ধারণক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটাতে হবে যাতে অধিক পরিমাণ জল সঞ্চয় রাখা সম্ভব হয়। 

(iii) নদীর ভাঙন নিয়ন্ত্রণ : নদীর উভয়পার্শ্ব [বিশেষ করে অতি বন্যা প্রবণ অঞ্চলগুলি] বোল্ডার, কাঠ, ঝামা, ইট প্রভৃতির দ্বারা বা কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করতে হবে যাতে নদীর পাড় ভাঙনের আশঙ্কা না থাকে। 

(iv) বাঁধের সংস্কার বা নির্মাণ: স্বাভাবিক বাঁধগুলিকে সংস্কার করতে হবে ও যে সমস্ত স্থানে স্বাভাবিক বাঁধ নেই বা বন্যা নিয়ন্ত্রণের উপযোগী নয় সেখানে কৃত্রিমভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। 

(v) বনসৃজন: নদীর জলধারা নিয়ন্ত্রণের জন্য যত বেশি সম্ভব বৃক্ষরোপণ ও অরণ্যবলয় তৈরি করা বা ছেদিত অরণ্যে পুনরায় বনসৃজন করা প্রয়োজন। যাতে বৃক্ষের দ্বারা মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ হয়, বন্যার গতি মন্দীভূত হয়।

 

ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত? 

) আবহাওয়া দপ্তর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাষ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে যত দ্রুত সম্ভব জনস্বার্থে সম্প্রচার করা প্রয়োজন। 

খ) উপকূবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। 

গ) উপকূল সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি নির্মাণের ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধি­নিষেধ জারি করা প্রয়োজন। 

ঘ) পূর্বাভাষা পাওয়ামাত্র বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্বারা ওই সমস্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয়, ও ঔষধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। 

ঙ) মৎস্যজীবিদের ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সম্বন্ধে অবগত করা এবং আগাম সতর্ক করা প্রয়োজন। 

চ) বিপর্যয় চলাকালিন বিপর্যস্ত এলাকার ওভারহেড বৈদ্যুতিন পরিষেবা যাতে বন্ধ থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। 

ছ) বিপদ সঙ্কুল এলাকায় দূর্বল বাড়ির বাসিন্দাদের পার্শ্ববর্তী নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

 

বিপর্যয় মোকাবিলায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা উল্লেখ করো। 

বিপর্যয়কালে শিক্ষার্থীরা নিম্নলিখিত ভূমিকাগুলি পালন করতে পারে। যথা—

১) দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে চারপাশের মানুষজনকে সতর্ক করে দিতে হবে।

২) যে সমস্ত অঞ্চল দুর্যোগপ্রবণ, সেখানে যেতে হবে। মানুষজনদের সাথে কথা বলতে হবে। দুর্যোগ সম্পর্কিত সচেতনতা মূলক শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দিতে হবে সবার মধ্যে।

৩) দুর্যোগ চলাকালীন অন্যান্য সংগঠকদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে নেমে পড়তে হবে দুর্গতদের উদ্ধার কাজে।

৪) ত্রাণ বিতরণের সময় সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ORS, পানীয় জল, শুকনো খাবার দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের হাতে তুলে দিতে হবে।

৫) কোনো খরা বিপর্যস্ত অঞ্চলে জল পেতে সাহায্য করতে হবে।

৬) ত্রাণ শিবিরে সজাগ থাকতে হবে। কোনো মানুষ সেখানে কোনোরকম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে কিনা, তা দেখতে হবে।

৭) মানসিক দিক দিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করতে হবে। মানুষের মনোবল ফিরে পেতে ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে হবে।

৮) গাছ যেহেতু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারে, তাই সুযোগমতো এলাকার চারপাশে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, তাদের সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এবং চারপাশের মানুষজনদের এ ব্যাপারে উৎসাহ দিতে হবে।

 

FAQ :

ইংরেজি হ্যাজার্ড কথাটির বাংলা মানে কি?

ইংরেজি হ্যাজার্ড কথাটির বাংলা মানে হল দূর্যোগ। 

ইংরেজি ডিজাস্টার কথাটির বাংলা মানে কি?

ইংরেজি ডিজাস্টার কথাটির বাংলা মানে হল বিপর্যয়। 

পাহাড়ী অঞ্চলের কী ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে?

পাহাড়ী অঞ্চলে ধস, মৃত্তিকা ক্ষয়, হড়পা বান ইত্যাদির আশঙ্কা থাকে।

মরুভূমি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কি কি?

মরুভূমি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হল ধূলিঝড়, মরুভূমির সম্প্রসারণ ইত্যাদি।

ভারতের মোট কত শতাংশ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ?

ভারতের মোট 69% শতাংশ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ।

ভারতের কোন্ অঞ্চল সর্বাধিক ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা?

হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ।

ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের উদাহরণ দাও।

ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয় হল — ধস, সুনামি, ভূমিকম্প ইত্যাদি।

নদী প্রবাহিত দুর্যোগ কি?

নদী প্রবাহিত দুর্যোগ হল — বন্যা, নদী­পাড়ের ভাঙন।

একটি মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়ের উদাহরণ দাও।

1984-এর ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা।

জলবায়ু সংক্রান্ত বিপর্যয় কি কি?

জলবায়ু সংক্রান্ত বিপর্যয় হল — সাইক্লোন, টর্নেডো, হ্যারিকেন ইত্যাদি।

জীব সংশ্লিষ্ট বিপর্যয়ের উদাহরণ দাও।

জীব সংশ্লিষ্ট বিপর্যয়ের উদাহরণ হল — মহামারি, খুদা ইত্যাদি।

সামাজিক বিপর্যয়ের উদাহরণ দাও।

সামাজিক বিপর্যয়ের উদাহরণ হল — যুদ্ধ, দাঙ্গা হাঙ্গামা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।

বর্ষাকালে একনাগাড়ে কতদিন বৃষ্টিপাত না হলে পূর্ণখরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়?

বর্ষাকালে একনাগাড়ে 15 দিন বৃষ্টি না হলে পূর্ণখরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভারতের অন্যতম ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?

হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল হল ভারতের অন্যতম ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল।

ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলতে কী বোঝ?

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রস্থলকে ঘূর্ণবাতের চক্ষু (Eye of the cyclone) বলে। ঘূর্ণবাত কেন্দ্রের চারপাশে কুণ্ডলীকারে মেঘের প্রাচীর অবস্থান করে।  ঘূর্ণবাতের নেত্র অঞ্চলে বায়ু অত্যন্ত হালকা এবং পরিবর্তনশীল, নিমজ্জনশীল বায়ু প্রবাহের জন্য নেত্র / চোখ অঞ্চলে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে।

ঘূর্ণবাতের চক্ষুর ব্যাস 20 কিমি থেকে 40 কিমি পর্যন্ত হয়, ঘূর্ণবাতের কেন্দ্র অঞ্চলে বায়ু শান্ত থাকলেও ঘূর্ণবাতের চক্ষুর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিম্বোস্ট্র্যাটাস মেঘের আস্তরণ দেখা যায়।

MONEX কী?

MONEX এর পুরো কথাটি হল — Monsoon Experiment. 

Global Atmospheric Research Programme এর অধীনে মৌসুমি বায়ু গবেষণা সংক্রান্ত একটি কর্মসূচি যাহা Monsoon Experiment বা MONEX নামে পরিচিত। এই কর্মসূচি অনুসারে মার্কিন ভূসমীক্ষণ উপগ্রহ GOES INDIAN OCEAN 60° পূর্ব দ্রাঘিমাতে অবস্থান করে মৌসুমি বায়ুকে সমীক্ষা করে। উক্ত উপগ্রহ মেঘমণ্ডলের অবস্থা সমীক্ষা করার পর ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা দ্বারা উৎক্ষিপ্ত উপগ্রহ METEOSAT­এর সাহায্যে মুম্বাইতে অবস্থিত উপগ্রহ বার্তা গ্রাহক কেন্দ্রে প্রেরণ করে। 

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

টর্নেডো হল অতি ক্ষুদ্র, সর্বাপেক্ষা দ্রুতগামী, অতিবিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। অত্যধিক উষ্ণতার প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপের জন্য ভূপৃষ্ঠের স্বল্প পরিসর স্থান থেকে উর্ধ্বাকাশে প্রসারিত কৃষ্ণকায় ফানেল আকৃতিবিশিষ্ট ঘূর্ণবাতকে টর্নেডো বলে। 

বৈশিষ্ট্য : ক) টর্নেডোর কেন্দ্রের ব্যাস 100m-500m হয়। 

খ) টর্নেডোর বায়ুচাপের ঢাল খুব বেশি হয়। তাই বাইরের বায়ু প্রবল বেগে ভিতরে প্রবেশ করে। 

গ) সমুদ্রের উপর টর্নেডো জলস্তম্ভ গঠন করে। 

ঘ) টর্নেডো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু গতিবেগ ঘণ্টায় 200-500km পর্যন্ত হয়। 

ঙ) এই ঘূর্ণিঝড়ে বায়ু উত্তর গোলার্ধে বামদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ডানদিকে প্রবাহিত হয়।

ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (Tropical Cyclone) কীভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা করো।

ক্রান্তীয় মণ্ডলে সংঘটিত নিম্নচাপ বিশিষ্ট ঝড়কে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বলে। এই ঘূর্ণবাত 5°-20° উঃ / দঃ অক্ষাংশের মধ্যে সৃষ্টি হয়। 

উৎপত্তি : ক্রান্তীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতার কারণে সমুদ্রের উপর বায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও উর্ধ্বমুখী হয়। অধিক বাষ্পীভবন ও উর্ধ্বমুখী বায়ুর জন্য নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। বায়ুর চাপ কমার জন্য  সমচাপ রেখাগুলি নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে বৃত্তাকারে অবস্থান করে। ফলে বাইরের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বাতাস প্রচণ্ড গতিতে কুণ্ডলাকারে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবেশ করে। ঘূর্ণবাত সৃষ্টিতে কোরিওলিস বল, ক্রান্তীয় পূবালি বায়ুতরঙ্গের নিম্নচাপ জনিত অস্থিরতা ঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। 

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ পূর্ব উপকূলভাগে এল­নিনোর (El-nino) প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

Elnino একটি স্পেনীয় শব্দ, যার অর্থ হল Christ Child বা শিশু খ্রিস্ট। 

দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর (ডিসেম্বর মাসে) মাঝে মধ্যে অনিয়মিতভাবে পশ্চিম থেকে পূর্বে পেরুর দিকে দক্ষিণমুখী উষ্ণ স্রোতের আগমন ঘটে। পেরুর নাবিকগণ এই উষ্ণ স্রোতকে Elnino নামে অভিহিত করেন। এই উষ্ণ স্রোত পেরু উপকূলে শীতল পেরু স্রোতের স্থান দখল করলে দুই বিপরীতধর্মী স্রোতের প্রভাবে বৃষ্টিবহুল আবহাওয়া সূচিত করে। 

প্রভাব : ক) ইকুয়েডর ও পেরুর শুষ্ক অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি (300-400cm) সংঘটিত হয়। 

খ) শক্তিশালি এল­নিনোর প্রভাবে পেরু ও ইকুয়েডরে বন্যার সৃষ্টি হয়। 

গ) উষ্ণ জলের প্রভাবে পেরুর উপকূলে  মৎস্য সংগ্রহে অসুবিধা হয়। 

কী কী কারণে ভূমিকম্প হয়?

ভূমিকম্প সৃষ্টিতে প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উভয় কারণ দায়ী। প্রাকৃতিক কারণগুলি হল—

১) দুটি ভূত্বকীয় পাতের সংঘর্ষ বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া, ২) অগ্ন্যুৎপাতের কারণে, ৩) ভূমিধ্বস বা হিমানী সম্প্রপাতের কারণে, ৪) চ্যুতির কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। 

অপ্রাকৃতিক কারণগুলি হল— 

১) নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, ২) পর্বতগাত্রে বৃক্ষছেদন এবং রাস্তা ও গৃহনির্মাণ দ্বারা ভূমিধ্বসকে ত্বরাণ্বিত করা, ৩) পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ডিনামাইটের সাহায্যে পাহাড় ফাটানোর কারণে স্থানীয়ভাবে ভূমিকম্প হয়।

সুনামি কী?

কোনো ভুমিকম্প যখন মহাদেশের তলায় সৃষ্টি না হয়ে সমুদ্রের তলায় সৃষ্টি হয় তখন ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশাল বিশাল ঢেউ সৃষ্টি করে উপকূলে আছড়ে পড়ে, একে সুনামি বলে।

সুনামি শব্দটির কোথা থেকে এসেছে? সুনামি শব্দটির অর্থ কী?

সুনামি একটি জাপানি শব্দ। ‘সু’-এর অর্থ সমুদ্রতীরের বন্দর এবং ‘নামি’ শব্দের অর্থ জলোছ্বাস। অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হল ‘সমুদ্রতীরের বন্দরে জলোচ্ছ্বাস’।

ভূমিধস কাকে বলে?

পাহাড়ের ঢালে জমে থাকা মাটি ও পাথরের স্তূপ দ্রুত অথবা ধীর গতিতে অভিকর্ষজ টানে পার্বত্য ঢাল বেয়ে নেমে আসাকে ভূমিধস বলে।

পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের আর কোথায় ভূমিধস হয়?

খনি অঞ্চলে, যথা— রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর।

ভূমিধসের প্রভাবগুলি কী কী?

ভূমিধসের প্রভাবগুলি হল— 

১) মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়।

২) মাটিতে বসবাসকারী প্রাণীরা বিনষ্ট হয়, তাই বাস্তুতন্ত্রে বিঘ্ন ঘটে। 

৩) ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়। 

৪) নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়, রাস্তা ভেঙে যায়। 

৫) কৃষির ক্ষতি হয়। 

৬) অনেক ক্ষেত্রে ভূমিধস মানুষের জীবনহানি ঘটায়।