ক্ষয়চক্র কী? স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের পূর্বশর্ত :

ক্ষয়কার্যের ফলে উত্থিত কোনো ভূমিভাগের প্রাথমিক অবস্থা থেকে ক্রমানুসারে যৌবন ও পরিণত অবস্থার মধ্যে দিয়ে বার্ধক্য অবস্থায় উপনিত হওয়া এবং এইভাবে ভূমিরূপের পুনরুত্থান ও পুনঃক্ষয়সাধন চক্রাকারে আবর্তিত হওয়াকে ক্ষয়চক্র বলে।

স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের কার্য সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য ডেভিস কতগুলি আদর্শ অবস্থার কথা বলেছেন, সেগুলি হল —

i) সমুদ্র থেকে উত্থান : ভূমিভাগটি একটি ভূতাত্ত্বিক একক হিসাবে সমুদ্র থেকে উত্থিত হবে।

ii) উল্লম্ব এবং দ্রুত উত্থান : প্রধানত ভূ­আলোড়নের জন্য ভূমিভাগটির উল্লম্ব উত্থান ঘটবে এবং প্রারম্ভিক উত্থানের হার যথেষ্ট দ্রুত হবে।

iii) ভূমিভাগের বিভিন্ন গঠন : উত্থিত ভূমিভাগটির গঠন ভাঁজযুক্ত, চ্যুতিযুক্ত ইত্যাদি হতে পারে।

iv) শিলার গঠনগত সমতা : ভূমিভাগের সর্বত্রই শিলার গঠনগত সমতা থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে কঠিন ও কোমল শিলা থাকবে।

v) ভূমিভাগের সমুদ্রমুখী ঢাল : ভূমিভাগের প্রাথমিক ঢাল হবে সমুদ্রমুখী।

vi) সহজাত বন্ধুরতা : ভূমিভাগটির উত্থানপর্বে বিকৃতি ও তারতম্য জনিত সহজাত বন্ধুরতা থাকবে।

vii) আর্দ্র জলবায়ু : অঞ্চলটির জলবায়ু হবে আর্দ্র, যাতে নদীগোষ্ঠী সৃষ্টি হয় এবং নদীর মাধ্যমে ক্ষয় প্রাধান্য লাভ করে।

viii) অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া : নদীক্ষয় ছাড়াও আবহবিকার, পুঞ্জক্ষয় প্রভৃতি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ভূমিরূপের বিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

ix) ক্ষয়ের শেষ সীমা : উত্থিত ভূমিরূপের ক্ষয়কার্য সমুদ্রপৃষ্ঠ পর্যন্ত চলতেই থাকবে এবং এই সমুদ্রপৃষ্ঠ বা সমুদ্রতলই হবে ক্ষয়ের শেষ সীমা।  

ডেভিস-এর স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের আলোচনা :

মার্কিন ভূতত্ত্ববিদ W. M. Devis ভূমিরূপ বিবর্তনের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে যে তত্ত্বের অবতারণা করেন তা ডেভিসের স্বভাবিক ক্ষয়চক্র নামে পরিচিত। ডেভিস নিজে এই ক্ষয়চক্রকে ভৌগোলিক ক্ষয়চক্র নামে অভিহিত করেছেন।

স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের পূর্বশর্ত : W. M. Devis এর মতে, স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র পূর্ণ হওয়ার জন্য বেশকিছু শর্ত থাকা একান্ত জরুরি। যথা—

i) উচ্চ অবস্থান : ক্ষয়চক্র সংগঠিত ভূ­ভাগটি সমুদ্র সমতল থেকে উঁচুতে অবস্থান করে।

ii) ভূমিভাগের দ্রুত উত্থান : ভূমিভাগটি দ্রুত উত্থিত হবে, একে ভূমিভাগের দ্রুত উত্থান পর্ব বলে।

iii) কঠিন ও কোমল শিলার মিশ্রণ : সমগ্র অঞ্চলটি কঠিন ও কোমল শিলার সংমিশ্রণে গঠিত হবে, যাতে নদী সহজে ক্ষয়কার্য করতে পারে।

iv) আর্দ্র জলবায়ু : অঞ্চলটিতে অবশ্যই আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ লাভ করবে। কারণ নদী বা জলের উপস্থিতি ছাড়া ক্ষয়চক্র সম্ভব নয়।

v) সমপ্রায়ভূমি পর্ব : ক্ষয়চক্রের বার্ধক্য অবস্থায় সমপ্রায়ভূমি গঠিত হবে অর্থাৎ সমগ্র অঞ্চলটি সমুদ্রতলের কাছাকাছি অবস্থান করবে।

ক্ষয়চক্রের বিভিন্ন পর্যায় : ভূ­বিজ্ঞানী মরিস ডেভিস ভূমিরূপ বিবর্তনকে মানুষের জীবনচক্রের সাথে মিলিয়ে ভূমিরূপ বিবর্তনকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করে। পর্যায়গুলি হল—

i) যৌবন অবস্থা : ক্ষয়চক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে সদ্য উত্থিত ভূমিভাগের উচ্চতা বেশি হয় এবং ভূমিক্ষয়ের প্রাথমিক ক্রিয়াগুলি অতি দ্রুত ও ব্যাপক হারে ক্ষয় চক্র করে বলে একে যৌবন অবস্থা বলে।

বৈশিষ্ট্য : ক) ভূ­উত্থান পর্ব সমাপ্তির পর নদীর কাজ শুরুর মাধ্যমে যৌবন অবস্থার সূচনা করে।

খ) ভূমি ঢাল অনুসারে এখানে অনুগামী ও উপনদীর উৎপত্তি হয়।

গ) এখানে বৃক্ষরূপী নদী নকশা গড়ে ওঠে।

ঘ) এই পর্যায়ে জলপ্রপাত, ক্যাস্কেড, মন্থকূপ, গিরিখাত ইত্যাদি ভূমিরূপের উৎপত্তি হয়।

ii) পরিণত অবস্থা : ক্ষয়চক্রের যে পর্যায়ে ভূমির উচ্চতা ও বন্ধুরতা হ্রাস পায় এবং আদি ভূমিভাগের শেষ চিহ্নটুকু অবশিষ্ট থাকে না, তাকে পরিণত অবস্থা বলে।

বৈশিষ্ট্য : ক) অসংখ্য নদী বাঁধ সৃষ্টি হয়।

খ) অঞ্চলটিতে বৃহৎ অনুগামী নদী এবং উপ অনুগামী নদীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

গ) ভূ উত্থানের চিহ্নগুলি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হলে পরিণত অবস্থা শুরু হয়।

iii) বার্ধক্য অবস্থা : ক্ষয়চক্রের যে পর্যায়ে ভূমির ঢাল, উচ্চতা এবং নদীর শক্তি হ্রাস পেয়ে সমগ্র অঞ্চলটিতে সমুদ্র  পৃষ্ঠের কাছাকাছি ঢেউ বৈচিত্র্যহীন সমপ্রায় ভূমিতে পরিণত হয়, তাকে বার্ধক্য অবস্থা বলে।

বৈশিষ্ট্য : ক) নদীর নিম্নক্ষয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং এই পর্যায় শুরু হয়।

খ) এই পর্যায় উপনদীর সংখ্যা একেবারে কমে যায়, শাখা নদীর উৎপত্তি ঘটে।

গ) নদীর ক্ষয়শক্তি একেবারে কমে যায় বলে অসংখ্য মিয়েণ্ডার সৃষ্টি হয়।

মরু বা শুষ্ক অঞ্চলে ক্ষয়চক্রের পর্যায় :

উইলিয়াম মরিস ডেভিস সর্বপ্রথম মরু অঞ্চলে পর্যায়ক্রমিক ভূমিরূপ পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেন। তাঁর মতে, মরু অঞ্চলের ভূমিরূপ, আবহবিকার, প্রবহমান জলধারা ও বায়ু প্রবাহের মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়। আর্দ্র অঞ্চলের স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের মতো শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষয়চক্রের তিনটি পর্যায় লক্ষ করা যায়। যথা —

ক) যৌবন অবস্থা : মরু অঞ্চলে জলপ্রবাহ জনিত ক্ষয়কার্যের মধ্য দিয়ে যৌবন অবস্থার সূচনা করে। এই অঞ্চলে ক্ষয়চক্রের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ভূমিরূপের যেসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়, সেগুলি হল —

i) ভূমির প্রারম্ভিক উত্থানে কতকগুলি পর্বতবেষ্টিত আবহবিকার সৃষ্টি হয়। এগুলির প্রত্যেকটিতে একটি করে কেন্দ্রীয় জ্বালামুখ সৃষ্টি হয়।

ii) মরু অঞ্চলে বাষ্পীভবনের মাত্রা অত্যধিক হওয়ায় পৃষ্ঠ প্রবাহ কমে যায়।

iii) অধিকাংশ নদী পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে এসে পলল শঙ্কুতে হারিয়ে যায়।

iv) বায়ুবাহিত বালুকারাশি অববাহিকার যেখানে সেখানে বলিয়াড়ি গঠন করে।

v) অববাহিকায় আর্দ্র ও শুষ্ক রীতি বিরাজ করলে হ্রদে পর্যায়ক্রমে পলি ও লবণ সঞ্চিত হয়।

খ) পরিণত অবস্থা : বৃষ্টিপাতের অভাবে বায়ুর কার্য বেশি সক্রিয় হলে পরিণত পর্যায় শুরু হয়। ভূমির উচ্চতা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ভীষণভাবে কমে যায় বলে এই পর্যায়ের প্রথমেই জলপ্রবাহের দ্বারা নগ্নীভবন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই পর্যায়ে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বৈশিষ্ট্য হল —

i) পর্বতগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, একে ইনসেলবার্জ বলে।

ii) এসময় বায়ুর কার্যের ফলে বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ যেমন — গৌর, ইয়ারদাঙ, সিফ প্রভৃতি গঠিত হয়।

iii) ক্ষয়ের মাধ্যমে পর্বত ঢালের পশ্চাদ অপসারণ ঘটে।

iv) এই পর্যায়ে জলবিভাজিকা তীক্ষ্ণ হয় এবং মধ্যবর্তী উপত্যকাগুলি প্রশস্ত হয়।

গ) বার্ধক্য পর্যায় : শুষ্ক অঞ্চলে জলধারার কাজ বন্ধ হয়ে যখন কেবলমাত্র বায়ু প্রবাহের কাজ চলে তখন শুরু হয় বার্ধক্য অবস্থা। এই অবস্থায় সৃষ্ট কতকগুলি ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য হল —

i) ভূমির বন্ধুরতা একেবারেই হ্রাস পায় এবং এর জন্য ভূমি সমতল আকার ধারণ করে। একে মরু সমপ্রায় ভূমি বলে।

ii) উপত্যকার বহু জায়গায় বিভিন্ন আকৃতির বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে।

iii) সবশেষে পাতলা আবরণযুক্ত শিলাময় সমপ্রায় ভূমি গঠিত হয়। একে পেডিমেন্ট বলে।

  

ডেভিস­­­-এর শুষ্কতার ক্ষয়চক্র ও কিং­-এর শুষ্কতার ক্ষয়চক্রের মধ্যে পার্থক্য :

বিষয়

ডেভিস-­এর শুষ্কতার ক্ষয়চক্র

কিং­-এর শুষ্কতার ক্ষয়চক্র

অঞ্চল

পর্বতবেষ্টিত শুষ্ক অববাহিকা।

উষ্ণ ও শুষ্ক মরু বা মরুপ্রায় উচ্চ মালভূমি অঞ্চল।

প্রক্রিয়া

ঢালের অবনমন প্রক্রিয়ায় শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষয়চক্র সম্পন্ন হয়।

ঢালের পশ্চাদপসারণ প্রক্রিয়ায় ক্ষয়চক্র সম্পন্ন হয়।

পেডিমেণ্ট

ঢালের অবনমণের মাধ্যমে পেডিমেণ্ট সৃষ্টি হয়।

ঢালের পশ্চাদ-পসারণের মাধ্যমে পেডিমেণ্ট গঠিত হয়।

ভূমিরূপ

ডেভিসের ক্ষয়চক্রে পলল শুঙ্কু, বাজাদা, ব্লো­আউট, মরু লোয়েসভূমি, পেডিমেণ্ট প্রভৃতি ভূমিরূপ গঠিত হয়।

কিং­এর ক্ষয়চক্রে গিরিখাত, পেডিমেণ্ট, ইনসেলবার্জ প্রভৃতি ভূমিরূপ গঠিত হয়।

শেষ পর্যায়

ডেভিসের ক্ষয়চক্রের শেষে বৈচিত্র্যহীন পর্যায়িত (Graded) ভূভাগ মরু সমপ্রায়ভূমি সৃষ্টি হয়।

কিং­এর ক্ষয়চক্রের শেষে অবতল ঢালযুক্ত সমভূমি পেডিপ্লেন সৃষ্টি হয়।

  

 স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র শুষ্কতার ক্ষয়চক্রের মধ্যে পার্থক্য :   

বিষয়

স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র

শুষ্কতার ক্ষয়চক্র

অঞ্চল

আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে নদী ও জলধারার মাধ্যমে স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র গড়ে ওঠে।

মরু, মরুপ্রায়, সাভানা জলবায়ু অঞ্চলে জলধারা নদী ও বায়ুর মিলিত কার্যের ফলে মরু ক্ষয়চক্র গড়ে ওঠে।

ভূমির বন্ধুরতা

এখানে প্রাথমিক অবস্থায় ভূমির বন্ধুরতা কম থাকে, পরিণত পর্যায়ে ভূমির বন্ধুরতা ক্রমশ বাড়ে।

এখানে যৌবন অবস্থায় ভূমির বন্ধুরতা সর্বাধিক হয়। এর পরবর্তী পর্যায়ে ভূমির বন্ধুরতা ক্রমশ কমতে থাকে।

ক্ষয়ের শেষ সীমা

সমুদ্রপৃষ্ঠেই এই ক্ষয়ের শেষ সীমা

এই ক্ষেত্রে ক্ষয়ের শেষ সীমা নির্ধারণ করা কঠিন।

ভূমিরূপ

স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের বার্ধক্যে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি হয়, সমপ্রায়ভূমি বা মোনাডনক গঠিত হয়।

মরুক্ষয়চক্রের যৌবন অবস্থায় লবণাক্ত প্লায়া হ্রদ সৃষ্টি হয়। পেডিপ্লেন ও ইনসেলবার্জ গড়ে ওঠে।

জলনির্গম প্রণালী

স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের প্রাথমিক পর্যায় অনুগামী নদী পরে পরবর্তী নদীর উৎপত্তি ঘটে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জলনির্গম প্রণালী গড়ে ওঠে।

মরু ক্ষয়চক্রের প্রাথমিক অবস্থায় অনুগামী নদী গড়ে ওঠে। জলনির্গম ব্যবস্থা দেখা যায় না, সকল নদী একসময় লুপ্ত প্রায় হয়ে যায়।

বিস্তার

এই ক্ষয়চক্র পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ অঞ্চলেই সংগঠিত হয়।

মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলেই কেবল শুষ্কতার ক্ষয়চক্র সংগঠিত হয়।

আপেক্ষিক উচ্চতা

এক্ষেত্রে তীব্র নিম্ন ক্ষয়ের জন্য যৌবন পর্যায়ের ভূমির আপেক্ষিক উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।

একসঙ্গে উচ্চভূমিক্ষয় ও নিম্নভূমি ভরাটের জন্য যৌবন পর্যায়ে ভূমির আপেক্ষিক উচ্চতা হ্রাস পায়।

হ্রদ

বার্ধক্য পর্বে  পরিত্যক্ত নদী বাঁকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের সৃষ্টি হয়।

প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে একটি কেন্দ্রীয় হ্রদ প্লায়া থাকে।

  

ডেভিস-এর (William Morris Davis) ক্ষয়চক্র ও পেঙ্ক­-­এর ক্ষয়চক্রের মধ্যে পার্থক্য :

বিষয়

ডেভিসের ক্ষয়চক্র

পেঙ্কের ক্ষয়চক্র

উদ্ভাবন

১৮৯৯ খ্রিঃ ডেভিস তার স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের ধারণা দেন।

জার্মান ভূতত্ত্ববিদ Walther Penck ১৯২৪ খ্রিঃ তাঁর স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের ধারণা দেন।

ধরণ

ডেভিসের ক্ষয়চক্র ধারণাটি সময় নির্ভর

পেঙ্ক­এর ধারণাটি সময় নিরপেক্ষ।

গতি

এক্ষেত্রে ক্ষয়চক্র প্রক্রিয়াটি অতি দ্রুতগতিতে ঘটে।

এক্ষেত্রে ক্ষয়ের প্রক্রিয়া অতি ধীর গতিতে চলে।

মূল বক্তব্য

ভূমিরূপের বিবর্তন : যৌবন, পরিণত, বার্ধক্য এই তিন পর্যায়ের মাধ্যমে ঘটে, ভূমিরূপ হল গঠন, প্রক্রিয়া, পর্যায়ের সম্মিলিত ফল।

ভূমিরূপের উত্থান পর্বের শেষ হলে তবেই ক্ষয়কার্য শুরু হয়।

ভূমিরূপের বিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বিবর্তন, সমবিবর্তন, ক্ষীয়মান বিবর্তনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। ভূমিরূপ হল উত্থান ও অবরোহণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল। ভূমিরূপের উত্থান ও ক্ষয়কার্য একসাথে চলে।

ভূমিঢাল

ডেভিসের ক্ষয়চক্রে ভূমিঢালের কোনো উল্লেখ নেই।

এখানে উত্তর ঢাল (waxing slope) ও অবতল  ঢাল (waving slope) এর উল্লেখ আছে।

ভূমির উচ্চতা

এখানে শৈলশিরাগুলির নিম্নমুখী ক্ষয়ের দ্বারা ভূমির উচ্চতা হ্রাস পায়।

এখানে শৈলশিরাগুলির পশ্চাৎমুখী ক্ষয়ের দ্বারা ভূমির উচ্চতা হ্রাস পায়।

সর্বশেষ ভূমিরূপ

ক্ষয়চক্রের শেষ পর্যায় বা পরিণতিতে ভূমিভাগটি সমপ্রায়ভূমি বা পেনিপ্লেনে পরিণত হয়।

ক্ষয়চক্রের শেষ পর্যায় বা পরিণতিতে ভূমিভাগটি নাতি উচ্চ সমপ্রায়ভূমি (Endrumpt) ­এ পরিণত হয়।

  

ভূমিরূপের পুনর্যৌবন (Rejuvenation of land form) লাভের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির বিবরণ :

ভূমিরূপের পুনর্যৌবন লাভ : কোনো প্রাকৃতিক কারণে নদীর ক্ষয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে, নদী তখন ওই পুরানো ভূ­ভাগকে নিচের দিকে ক্ষয় করতে শুরু করে। এইভাবে পর্যায়িত ঢালের উপর যৌবন অবস্থার ভূমিরূপের অধ্যারোপণকে ভূমিরূপের পুনর্যৌবন লাভ বলে।

ভূমিরূপের পুনর্যৌবন লাভ ও সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহ :

নিক বিন্দু (Knick Point) : ভূমিরূপের পুনর্যৌবন লাভের ফলে নদী দৈর্ঘ্য বরাবর গতিপথের যে বিন্দুতে উর্ধ্ব উপত্যকার পুরানো মৃদু ঢালের সঙ্গে নিম্ন উপত্যকার নতুন খাড়া ঢালের সংযোগ ঘটে, তাকে নিক বিন্দু বলে। নিক বিন্দুতে ঢালের পার্থক্যের জন্য জলপ্রপাত গঠিত হয়।

বৈশিষ্ট্য : ক) এখানে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়।

খ) নিকবিন্দু ক্রমশ পিছু হটতে থাকে।

গ) এটি নতুন ও পুরাতন উপত্যকার সংযোগ স্থল।

নদীমঞ্চ (River Terrace) : পুনর্যৌবন লাভের ফলে নদী নীচে উল্লম্বভাবে কেটে বসে যাওয়ার জন্য পূর্বেকার নদী উপত্যকার প্লাবন সমভূমি নদীর দুপাশে পরিত্যক্ত মঞ্চের আকারে অবস্থান একে নদীমঞ্চ বলে। উপত্যকার উভয় পার্শ্বে সমান উচ্চতায় মঞ্চগুলি জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করলে তাকে যুগল নদীমঞ্চ বলে।

বৈশিষ্ট্য : ক) নদী মঞ্চগুলি সিড়ির ধাপের মতো অবস্থান করে। খ) যতবার নদী পুনর্যৌবন লাভ করে ততবার নদীমঞ্চ গঠিত হয়। গ) নীচের নদী মঞ্চগুলি বয়সে নবীন এবং উপরের নদী মঞ্চগুলি বয়সে প্রবীণ হয়।

উপত্যকার মধ্যে উপত্যকা (Valley in valley) : ক্ষয়চক্রের প্রথম অবস্থায় পুরানো, প্রশস্ত ও মৃদু ঢালু উপত্যকার মধ্যে পুনর্যৌবন প্রাপ্ত শক্তিশালী নদী তীব্র নিম্নক্ষয় করে সুগভীর ও খাড়া ঢালু উপত্যকার সৃষ্টি করে এবং উভয় উপত্যকার সংযোগস্থলে ঢালের বিচ্যুতি ঘটে, একে নদী ধাপ বা স্কন্ধভূমি বলে। সমগ্র উপত্যকার উপরের দিকে বার্ধক্য পর্যায় এবং তলদেশের দিকে যৌবন পর্যায় নির্দেশ করে যাহা দেখে মনে হয় পুরানো উপত্যকার মধ্যে নতুন গভীর নদী উপত্যকা অবস্থান করছে। এই প্রকার ভূমিরূপকে উপত্যকার মধ্যে উপত্যকা বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য : ক) এক্ষেত্রে উপত্যকাগুলি প্রশস্ত থেকে সংকীর্ণ হয়ে যায়। খ) যতবার নদী পুনর্যৌবন লাভ করে ততবার উপত্যকা গঠিত হয়। গ) পুরানো ও নতুন উপত্যকার সংযোগস্থলে স্কন্দভূমি গড়ে ওঠে।  

খোদিত বা কর্তিত নদী বাঁক (Incised Meander) : বার্ধক্য অবস্থায় নদী বড়ো বড়ো বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয়। এই অবস্থায় পুনর্যৌবন প্রাপ্তি ঘটলে নদী বাঁকের মধ্যে উল্লম্বভাবে কেটে বসে যায় এবং পার্শ্বক্ষয় করে সরতে থাকে। এই প্রকার  ভূমিরূপকে খোদিত বা কর্তিত নদী বাঁক বলে। দুই ধরনের কর্তিত নদী বাঁক দেখা যায় — i) সম খাড়া  পরিখা বেষ্টিত নদী বাঁক, ii) অসম খাড়া পরিখা বেষ্টিত নদী বাঁক।

সমখাড়া পরিখা বেষ্টিত নদী বাঁক : নদীর নিম্নক্ষয় বেশি থাকলে নদী অধিক নিচের দিকে ক্ষয় করে এবং দুপাশে সমান খাড়া প্রাচীর বেষ্টিত হলে তাকে সমখাড়া পরিখা বেষ্টিত নদী বাঁক বলে।

অসম খাড়া পরিখা বেষ্টিত নদী বাঁক : নদীর নিম্নক্ষয় অপেক্ষা পার্শ্বক্ষয় বেশি হলে নদী এক পাশে বেশি ক্ষয় করে সরে যেতে থাকে, ফলে উভয় পার্শ্বে ভূমির ঢাল একই থাকে না, এই প্রকার পাড়কে অসম খাড়া পরিখা বেষ্টিত নদী বাঁক বলে।

বৈশিষ্ট্য : ক) নদীর বাঁকা অংশগুলি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের আকৃতি ধারণ করে। খ) নদী পাড়ের দুদিকে সম উচ্চতা বা অসম উচ্চতা বিশিষ্ট খাড়া পাড় অবস্থান করে। 

                          

  

FAQ : 

১। কোনো ক্ষয়চক্রকে স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র বলে অভিহিত করা হয়?

 নদী বা জলপ্রবাহের ক্ষয়চক্রকে স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র বলে।

২। কোনো ভূতত্ত্ববিদ স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের প্রথম ধারণা দেন?

বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ উইলিয়াম মরিস ডেভিস 1899 খ্রিঃ প্রথমে স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের ধারণা দেন।

৩। ডেভিসের ত্রয়ী বলতে কী বোঝ?

গঠন (Structure), প্রক্রিয়া (Process), সময় বা পর্যায় (time) এই তিন ক্ষয়চক্রের নিয়ন্ত্রককে ডেভিসের ত্রয়ী বলে।

৪। ডেভিস স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের ভূমিরূপ বিবর্তনকে কয়ভাগে ভাগ করেছেন ও কী কী?

ডেভিস স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের ভূমিরূপ বিবর্তনকে i) তরুণ বা যৌবন অবস্থা, ii) পরিণত অবস্থা, iii) বার্ধক্য অবস্থা — এই তিনভাগে ভাগ করেছেন।

৫। স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের বার্ধক্যে যে কচ্ছপের পিঠের মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?

স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের বার্ধক্যে সৃষ্ট প্রায় সমপ্রায়ভূমিকে বলে Peneplain (Almost plain)।

৬। ক্ষয়চক্রের যৌবন অবস্থায় সৃষ্ট ভূমির ঢাল অনুসরণকারী নদীগুলিকে কী বলে?

ক্ষয়চক্রের যৌবন অবস্থায় ভূমির প্রাথমিক ঢাল অনুসারে সৃষ্ট নদীগুলিকে অনুগামী নদী বলে। (Consequent stream)।

৭। ক্ষয়চক্রের যৌবন অবস্থায় কী ধরনের জলনির্গম প্রণালী দেখা যায়?

ক্ষয়চক্রের যৌবন অবস্থায় বৃক্ষরূপী জলনির্গম প্রণালী দেখা যায়।

৮। ক্ষয়চক্রের পরিণত অবস্থায় কী ধরনের নদী সৃষ্টি হয়?

ক্ষয়চক্রের পরিণত অবস্থায় পরবর্তী নদী (Subsequent stream) সৃষ্টি হয়।

৯। ক্ষয়চক্রের বার্ধক্য পর্যায় নদী উপত্যকার আকৃতি কীরূপ হয়?

ক্ষয়চক্রের বার্ধক্য পর্যায় নদী উপত্যকার আকৃতি প্রশস্ত ‘U’ এর মতো হয়।

১০। ক্ষয়চক্রের পুনরুজ্জীবন (Rejuvenation of cycle of erosion) কাকে বলে?

অঞ্চলটির সমস্থিতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি ক্ষয়চক্র শেষ হবার আগেই সেখানে পুনরায় ভূ­উত্থান ও পুনঃক্ষয়চক্র প্রক্রিয়া শুরু হয় একে ক্ষয়চক্রের পুনঃযৌবন লাভ বলে।

১১। স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের শেষ সীমা কোনটি?

সমুদ্রপৃষ্ঠ­ই স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের শেষ সীমা নির্দেশ করে।

১২। অসম বিকাশ তত্ত্ব কার সৃষ্টি?

1959 খ্রিঃ ক্রিকমে অসম বিকাশ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

১৩। হ্যাক প্রবর্তিত ক্ষয়চক্রের ধারণাগুলি কী কী নামে পরিচিত?

ভূবিজ্ঞানী জে. টি. হ্যাক (J. T. Hack) প্রবর্তিত ধারণাগুলি হল গতিশীল ভারসাম্য তত্ত্ব (Dynamic Equilibrium Theory) ও অচক্রীয় ধারণা (Non Cyclic concept)।

১৪। মোনাডনকস্‌ শব্দের উৎপত্তিগত উৎস কোনটি?

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঞ্চলের মাউণ্ট মোনাডনকস্‌ এর নামানুসারে ক্ষয়চক্রের বার্ধক্য পর্যায় গঠিত অবশিষ্ট পাহাড়গুলিকে মোনাডনকস্‌ (Monadonocks) বলে।

১৫। প্রাইমারাম্ফ (Primarrumpf) কী?

ভূবিজ্ঞানী পেঙ্ক ক্ষয়চক্রের প্রারম্ভিক ভূ­পৃষ্ঠ যা বন্ধুরতাহীন তাকে প্রাইমারাম্ফ বলে অভিহিত করেন। এখানে ক্ষয়কার্য ও উত্থানকার্য সমহারে ধীরগতিতে চলে।

১৬। এণ্ডরাম্ফ (Endrrumpf) কী?

ভূবিজ্ঞানী পেঙ্ক ক্ষয়চক্রের বিবর্তন পর্বে ভূমির ঢালের অভিকর্ষজ ঢালের পশ্চাৎ অপসারণের ফলে সৃষ্ট নিম্নঢালবিশিষ্ট সমতলভূমিকে এণ্ডরাম্ফ বলে চিহ্নিত করেছেন।

১৭।  শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষয়চক্রের এল. সি. জি. কিং­এর ধারণার নাম কী?

শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষয়চক্রের এল. সি. জি. কিং­এর মতবাদটি পাদসমতলীয়করণ মতবাদ (Pediplaination concept) নামে পরিচিত। এটি 1948 সালে প্রকাশ পায়।

১৮। উইলিয়াম মরিস ডেভিস প্রবর্তিত শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষয়চক্রের ধারণাটি কবে উদ্ভাসিত হয়?

1905 খ্রিঃ ভূবিজ্ঞানী উইলিয়াম মরিস ডেভিস শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষয়চক্রের ধারণাটি উদ্ভাবন করেন।

১৯। ডেভিসের মতে শুষ্ক অঞ্চলে ক্ষয়চক্রের পর্যায়গুলি কী কী?

ডেভিসের মতে, শুষ্ক অঞ্চলে ক্ষয়চক্রের পর্যায়গুলি হল — i) প্রাথমিক অবস্থা (Initial Stage), ii) যৌবন অবস্থা (Youth Stage), iii) পরিণত অবস্থা (Mature Stage), iv) বার্ধক্য অবস্থা (Old Stage)।

২০। গতিশীল পুনর্যৌবন লাভ বলতে কী বোঝ?

ভূ­আলোড়নের মাধ্যমে ভূমি উত্থান ঘটলে ভূমির ঢালের পরিবর্তন ঘটে নদীর গতিবেগ বাড়ে ও ক্ষয়চক্র পুনর্যৌবন লাভ করে নতুন নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে একে বলে গতিশীল পুনর্যৌবন লাভ (Dynamic Rejuvenation)।

২১। ইউস্ট্যাটিক পুনর্যৌবন লাভ কী?

ভূ­আলোড়ন ও ভূকম্পের মাধ্যমে সমুদ্রের জলধারণ ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে, মহাদেশীয় হিমবাহের গলনে সমুদ্রের জলপৃষ্ঠের উত্থান ঘটে ও উচ্চতার পরিবর্তনে যে পুনর্যৌবন লাভ ঘটে তাকে ইউস্ট্যাটিক পুনর্যৌবন লাভ (Ecstatic Rejuvenation) বলে।

২২। স্থিতিশীল পুনর্যৌবন লাভ কী?

ভূ­উত্থান বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান না ঘটলেও অনেক সময় বৃষ্টির ফলে নদীর জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। নদীগ্রাসের ফলে কিংবা নদী বোঝার পরিমাণ কমে গিয়ে পুনর্যৌবন লাভ করে, একে বলে স্থিতিশীল পুনর্যৌবন লাভ (Static Rejuvenation)।

২৩। বোর্নহার্ড কোন প্রকার জলবায়ু অঞ্চলে সৃষ্ট হয়?

শুষ্ক মরুজলবায়ু অঞ্চলে বোর্নহার্ড সৃষ্টি হয়।

২৪। কে মরুঅঞ্চলের ক্ষয়চক্রের শেষে গঠিত অবশিষ্ট পাহাড়গুলিকে বোর্নহার্ড বলে অভিহিত করেন?

উইলস (Wills) মরু ক্ষয়চক্রের শেষে গঠিত অবশিষ্ট পাহাড়গুলিকে বোনহার্ড বলে অভিহিত করেন। পাসার্জ বোর্নহার্ডকে ইনসেলবার্জ বলে অভিহিত করেন।

২৫। পেডিমেন্ট কাকে বলে?

মরু অঞ্চলে পর্বত বা পাহাড়ের পাদদেশে জলধারা এবং বায়ুপ্রবাহের মিলিত ক্ষয়কার্যের ফলে যে পর্বত পাদদেশীয় ক্ষয়জাতীয় সমভূমি গড়ে ওঠে, তা পেডিমেণ্ট নামে পরিচিত। 1822 খ্রিঃ ভূতত্ত্ববিদ G. K. Gilbart পেডিমেন্ট ধারণার অবতারণা করেন।

২৬। ইনসেলবার্জ কাকে বলে?

ভূ­তত্ত্ববিদ প্যাসার্জের মতে, মরু সমপ্রায় ভূমির উপর যে অল্প উচ্চতা সম্পন্ন ভূমিরূপ অবস্থান করে, যা ইনসেলবার্জ নামে পরিচিত। ইনসেলবার্জ একটি জার্মান শব্দ যার অর্থ দ্বীপের মতো ইতস্তত বিক্ষিপ্ত পাহাড়। ভূ­তত্ত্ববিদ (বোনহার্ড)এর নামানুসারে গম্বুজাকৃতি ইনসেলবার্জকে বর্নহার্ড বলে।

২৭। প্লায়া কাকে বলে?

শুষ্ক মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে পর্বত বা পাহাড়ের পাদদেশে যে লবণাক্ত হ্রদ অবস্থান করে তাকে প্লায়া বলে। মরু অঞ্চলে অবস্থান করায় অধিকাংশ প্লায়া হ্রদগুলি অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘লা­প্লায়া’ পৃথিবীর বৃহত্তম।

২৮। পুনর্যৌবন লাভ বলতে কী বোঝ?

পুনর্যৌবন লাভ বলতে এক কথায় পুনরায় যৌবন অবস্থা প্রাপ্তিকে বোঝায়। হঠাৎ কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা যথা ভূ­আলোড়ন, অগ্ন্যুৎগম দ্বারা নদী উপত্যকা ঢালের পরিবর্তন হলে নদীর নিম্নক্ষয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে নদী উপত্যকাতে যৌবন অবস্থার ভূমিরূপগুলি পুনরায় সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এই অবস্থাকে নদীর পুনর্যৌবন লাভ বলে।